যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার মুহাম্মদ আবদুল মুহিত
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ জুন ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ২৯ জুন, ২০২৬:: যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন দেশের অভিজ্ঞ ক্যারিয়ার কূটনীতিক ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবদুল মুহিত। কূটনৈতিক সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মুহাম্মদ আবদুল মুহিত বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসের ১১তম বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের কর্মকর্তা। ১৯৯৩ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদানের মাধ্যমে শুরু হওয়া তাঁর কূটনৈতিক কর্মজীবন তিন দশকেরও বেশি সময়ের।
তিনি ওয়াশিংটন ডিসি, রোম, দোহা ও কুয়েতের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ইউরোপের দেশগুলোতেও তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে তিনি অস্ট্রিয়া ও ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। একইসঙ্গে হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া, স্লোভাকিয়া, এস্তোনিয়া ও আইসল্যান্ডে সমবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
মুহিত ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি (রাষ্ট্রদূত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তিরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের অবস্থান তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০২৪ সালে তিনি ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ ও ইউএনওপিএস-এর যৌথ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একইসঙ্গে জাতিসংঘ শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিশনের-এর চেয়ার হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।
মুহাম্মদ আবদুল মুহিত সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এছাড়াও কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষায় তাঁর একটি ডিপ্লোমা ডিগ্রি রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং রুবি পারভীন তাঁর সহধর্মিণী। এই দম্পতি দুই কন্যাসন্তানের জনক-জননী।
মুহিত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কাজ করেছেন। বহুপাক্ষিক কূটনীতি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

