ওসমানী বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার যুক্তরাজ্য প্রবাসী নারী
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জুলাই ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ১২ জুলাই ২০২৬: প্রতারণার মামলায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক নারীকে গ্রেফতার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। রবিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া মাকসুদা চৌধুরী (৫৬) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রাউটগাঁও গ্রামের শাহ মো. ছালেক হোসেনের স্ত্রী। তিনি সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা একটি জিআর মামলার (মামলা নং-০৩/৩৩৮, তারিখ: ১ জুলাই ২০২৬) এজাহারভুক্ত আসামি।
পুলিশ জানায়, রবিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০১ ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মাকসুদা চৌধুরী। তবে আদালতের নির্দেশে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৮১, তারিখ: ১২/০৭/২০২৬) মূলে তাকে কোতোয়ালি থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুল কুদ্দুসের কাছে হস্তান্তর করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আম্বরখানা মৌজার একটি ৪ দশমিক ৮৫ শতক ভূমির মালিক ছিলেন শাহ মো. ছালেক হোসেন। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর হেবা দলিলের মাধ্যমে তিনি জমিটি তার স্ত্রী মাকসুদা চৌধুরীর নামে হস্তান্তর করেন। পরে নামজারি সম্পন্ন করে মাকসুদা চৌধুরী জমিটির দখলে ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জমিটি বিক্রির জন্য প্রচার করলে অভিযোগকারীর মেয়ের স্বামী, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ফুজাইল আহমদ সেটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষের আলোচনায় জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে আরটিজিএসের মাধ্যমে মাকসুদা চৌধুরীর প্রাইম ব্যাংকের হিসাবে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা পাঠানো হয়। একই দিনে ব্যাংক এশিয়ার একটি চেকের মাধ্যমে আরও ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ফলে তিনি মোট ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।
এজাহারে বলা হয়, অর্থ গ্রহণের পর দলিল নিবন্ধনের সব প্রস্তুতি এবং সরকারি ফি জমা দেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে মাকসুদা চৌধুরী কোনো কারণ ছাড়াই দলিল সম্পাদন না করে স্থান ত্যাগ করেন। পরে বারবার অনুরোধ করা হলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন, টাকা গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং অভিযোগকারী ও ফুজাইল আহমদকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
অভিযোগকারীর দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে জমি বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা গ্রহণ করেও দলিল সম্পাদন না করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এতে তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, প্রতারণা মামলার আসামি হওয়ায় এবং বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় মাকসুদা চৌধুরীকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

