সাউথ এশিয়ান হেরিটেজ মান্থে লন্ডনে উদযাপিত হলো বাংলাদেশ দিবস
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ জুলাই ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ২১ জুলাই ২০২৬:: যুক্তরাজ্যে মাসব্যাপী পালিত সাউথ এশিয়ান হেরিটেজ মান্থ উপলক্ষে লন্ডনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশ দিবস। এতে আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতি বছর ১ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত পালিত সাউথ এশিয়ান হেরিটেজ মান্থে দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশ, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান এবং মালদ্বীপের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নানা আয়োজনে উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানীয় কাউন্সিল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাহিত্যসভা এবং ঐতিহ্যবিষয়ক আলোচনা আয়োজন করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (১৯ জুলাই) সাউথ এশিয়ান হেরিটেজ ট্রাস্ট, সংলাপ সাহিত্য-সংস্কৃতি ফ্রন্ট এবং অনেক্স ইউকে অ্যান্ড ইউরোপ-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘সাউথ এশিয়ান হেরিটেজ মান্থ: বাংলাদেশ দিবস’।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাউথ এশিয়ান হেরিটেজ মান্থের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড শিল্পী নোমান আজমী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংলাপ সাহিত্য-সংস্কৃতি ফ্রন্টের চেয়ারম্যান, কবি ও কথাসাহিত্যিক সাঈদ চৌধুরী।
আলোচনায় অংশ নেন টেক্সটাইল ও ফ্যাশন ডিজাইনার তাসলিমা আহমদ এমবিই, ব্রিট বাংলার তারিন খানম, শিল্পী ও ডিজাইনার শামা কুল, সাংবাদিক আজিজুল আম্বিয়া, অনেক্স ইউকে অ্যান্ড ইউরোপ-এর প্রতিষ্ঠাতা এইচ রহমান, আরিফুল হক, বদরুল ইসলামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রাউয়ী শিল্পী ড. সালেক মুর্শেদ। শিল্পী নোমান আজমী কবি আল মাহমুদ-এর বিখ্যাত কবিতা ‘নোলক’ গানে পরিবেশন করেন। এছাড়া বিশিষ্ট আইনজীবী ও আবৃত্তিকার নাসিম আহমদ আবৃত্তি করেন কবি সাঈদ চৌধুরী রচিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করা কবিতা ‘সৃষ্টির হিরন্ম বিস্ময়’।
এবারের বাংলাদেশ দিবস উৎসর্গ করা হয় বাংলাদেশের দুই প্রথিতযশা সাহিত্য ব্যক্তিত্ব, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কালজয়ী কবি ও কথাসাহিত্যিক আল মাহমুদ-এর প্রতি। তাঁদের সাহিত্যকর্ম ও জাতীয় জীবনে অবদান অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে আগত অতিথি, মুক্তচিন্তার লেখক, গবেষক, শিল্পী এবং সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন। আয়োজকরা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও সমৃদ্ধ করবে।

