গ্রেটার দেউলগ্রাম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের প্রথম গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ জুলাই ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ২৭ জুলাই ২০২৬: যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামাজিক সংগঠন গ্রেটার দেউলগ্রাম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে তাদের প্রথম গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। গত রোববার (২৬ জুলাই) ট্রাস্টের সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে ডরসেটের বিশ্বখ্যাত ডার্ডল ডোর হয়ে সমুদ্রতীরবর্তী শহর বোর্নমাউথে দিনব্যাপী এ শিক্ষা, বিনোদন ও কমিউনিটি সম্পৃক্ততামূলক সফর অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল সাড়ে ৯টায় পূর্ব লন্ডনের স্টেপনি গ্রিন থেকে কোচে যাত্রা শুরু করেন অংশগ্রহণকারীরা। পথে যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা বিলম্ব হলেও দুপুর ২টার দিকে দলটি ডরসেটের বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র ডার্ডল ডোরে পৌঁছে।
সেখানে সদস্যরা প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কাটান। জুরাসিক কোস্টের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রের বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা আইকনিক লাইমস্টোন আর্চ এবং পাহাড়চূড়া থেকে সমুদ্রের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করেন তারা। খাড়া পাহাড় বেয়ে নিচে নামা ছিল রোমাঞ্চকর, তবে ওপরে ওঠা ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। সময়ের স্বল্পতার কারণে পুরো এলাকাটি ঘুরে দেখার সুযোগ না হলেও স্থানটির সৌন্দর্য অংশগ্রহণকারীদের মুগ্ধ করে। গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে ডার্ডল ডোর, যেখানে অনেকে সমুদ্রেও সাঁতার কাটেন।
ডার্ডল ডোর থেকে বিকেলে দলটি বোর্নমাউথের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে প্রায় বিকেল ৫টায় সেখানে পৌঁছায়। সেখানে বার্মিংহাম থেকে আগত ট্রাস্টের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হয়ে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। যাত্রার শুরুতে কোচে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও হামদ পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য সুস্বাদু নাস্তা ও বাড়িতে তৈরি চা পরিবেশন করা হয়।
বোর্নমাউথে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী নানা ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল পুরুষদের রশি টানাটানি, মহিলাদের ডিম-চামচ দৌড়, নারী-পুরুষ ও শিশুদের বস্তা দৌড়, র্যাফেল ড্রসহ বিভিন্ন আনন্দঘন আয়োজন। এসব প্রতিযোগিতায় শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ সদস্যরাও উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, এই ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেউলগ্রামের প্রবাসী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় বৃদ্ধি, সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা এবং নতুন প্রজন্মকে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য এটি ছিল প্রকৃতি, ইতিহাস ও সামাজিক সম্প্রীতি সম্পর্কে জানার একটি শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা।
কার্যক্রম শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারী সকল মহিলাকে স্বর্ণপদক এবং সকল পুরুষকে ব্রোঞ্জ পদক প্রদান করা হয়। এছাড়া সদস্যরা বোর্নমাউথ সমুদ্রসৈকত ঘুরে দেখেন, ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন এবং কেউ কেউ স্বল্প সময়ের জন্য সমুদ্রে সাঁতারও উপভোগ করেন। সারাদিনের হাঁটাহাঁটি ও নির্মল পরিবেশ ভ্রমণটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে বোর্নমাউথ থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় কোচ। পথে একটি সার্ভিস স্টেশনে আধা ঘণ্টার বিরতি শেষে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে সবাই নিরাপদে লন্ডনে পৌঁছান।
সফরে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আব্দুল আলিম হাকিম, কোষাধ্যক্ষ মনোয়ার আহমেদ, সাবেক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, সাবেক কোষাধ্যক্ষ রওশন আহমেদ, গুলজার হুসেন, দুলাল আলম, হেলাল আহমেদ, আবুল আজাদ শেবুল, বাবুল হুসেন, খায়রুল ইসলাম দিপু, মইনুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, মাহবুব আলম, ফরিদ উদ্দিন, জাবেদুর রহমান, রাসেল, বাবরসহ ট্রাস্টের বিপুলসংখ্যক সদস্য, নারী ও শিশুরা।
সফর শেষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সফল আয়োজনের জন্য সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ ও তাঁর সহধর্মিণীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সফর বাস্তবায়নে সহযোগিতাকারী সকল নারী সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীদের অবদানেরও প্রশংসা করা হয়। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যা প্রবাসী দেউলগ্রামবাসীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

