লন্ডনে সিভিক অ্যাওয়ার্ড পেলেন সর্বকনিষ্ঠ বৃটিশ-বাংলাদেশি লেখিকা জয়নাব চৌধুরী
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
লন্ডনে শিক্ষা ও সমাজসেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সর্বকনিষ্ঠ বৃটিশ-বাংলাদেশি লেখিকা, ১১ বছর বয়সী জয়নাব চৌধুরী মর্যাদাপূর্ণ সিভিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যতিক্রমী ভূমিকার জন্য তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) লন্ডন টাউন হলে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে জয়নাব চৌধুরীর হাতে সিভিক অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়। এই সম্মাননার মাধ্যমে তাঁর নাম স্থায়ীভাবে লন্ডনের সিভিক রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ক্যাটাগরিতে সর্বকনিষ্ঠ বৃটিশ-বাংলাদেশি সিভিক অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হিসেবে তাঁকে একজন আদর্শ প্রতিনিধি ও রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্পিকার, ডেপুটি মেয়র, কেবিনেট মেম্বার, চিফ এক্সিকিউটিভ, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি, বৃটিশ গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জয়নাব চৌধুরীর রচিত সম্প্রতি প্রকাশিত বই “My Journey Through Cayley Primary”-তে একজন শিক্ষার্থীর দৃষ্টিকোণ থেকে বিদ্যালয় জীবন, অধ্যবসায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠার গল্প সংবেদনশীল ও অনুপ্রেরণামূলক ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
লেখালেখির পাশাপাশি জয়নাব ছোটবেলা থেকেই সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। কোভিড-১৯ মহামারির সময় অল্প বয়সেই তিনি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেন। পরবর্তীতে চারিটেবল কাজের অংশ হিসেবে নিয়মিত খাদ্য বিতরণ, তহবিল সংগ্রহ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর এই দীর্ঘমেয়াদি স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড তাঁকে কমিউনিটিতে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
বইমেলাসহ বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জয়নাব নিজেকে তুলে ধরেছেন। পড়াশোনায় কৃতিত্বের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বগুণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, জয়নাবের এই সিভিক অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি প্রমাণ করে-যথাযথ উৎসাহ ও সহায়তা পেলে অল্প বয়সেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাঁর এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উল্লেখ্য, জয়নাব চৌধুরী লন্ডনের কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি হাসান চৌধুরী (শিপন) ও নাদিরা চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ কন্যা। তাঁর বাবা-মা সবসময় তাঁর প্রতিভা বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন।
বাংলাদেশেও তাঁদের পরিবারের অবদান উল্লেখযোগ্য।
জয়নাবের দাদা তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী হিসাব মহা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় “তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে অসহায় মেয়েরা বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। তাঁর দাদী রুনা বেগম (বিএ, বিএড) একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ডেপুটি হেড টিচার হিসেবে দীর্ঘদিন শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে প্রজন্ম গড়ে তুলতে অবদান রেখে যাচ্ছেন।

