বিলেতের আলোকিতজন আশফাক উদ্দিন আহমদ : প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জুন ২০২৬
ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কামরুল হাসান
কিছু মানুষ পৃথিবীতে এমনভাবে জীবন কাটিয়ে যান, যাদের প্রস্থান শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং একটি সমাজের, একটি প্রজন্মের এবং অসংখ্য মানুষের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়ায় । মরহুম আশফাক উদ্দিন আহমদ ছিলেন তেমনই একজন ।
যুক্তরাজ্যে আগমনের পর পূর্ব লন্ডনের ক্যানন স্ট্রিটে অবস্থিত তাঁর প্রতিষ্ঠিত ল’ ফার্ম ‘একে সলিসিটরস’-এ আমার বিলেতের কর্মজীবনের সূচনা ঘটে । দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুবাদে তাঁকে খুব কাছ থেকে জানার ও দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল।
গত বছরের ৬ জুলাই (২০২৫) তিনি আশি বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমান। তাঁকে গার্ডেন্স অব পিস কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। তাঁকে ঘিরে অসংখ্য স্মৃতি আজও আমার হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে।
আগামী ৬ জুলাই তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী । তাঁর ইন্তেকালের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে, দীর্ঘদিনের একজন সহকর্মী হিসেবে তাঁর জীবন, কর্ম ও ব্যক্তিত্বের কিছু স্মৃতি ও অনুভূতি তুলে ধরার ক্ষুদ্র প্রয়াস এই লেখা।
মরহুম আশফাক উদ্দি শুধু একজন সফল আইনজীবী ছিলেন না, ছিলেন একজন আদর্শ স্বামী, স্নেহশীল পিতা, সমাজসেবক, চিন্তাবিদ, ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ । তাঁর জীবনকে যতই জানার চেষ্টা করি, ততই উপলব্ধি করি যে তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে ছিল ঈমান, নৈতিকতা, জ্ঞান, মানবতা এবং মানুষের জন্য কিছু করে যাওয়ার এক নিরলস প্রচেষ্টা।
যারা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, তারা তাঁর অর্জনের চেয়ে তাঁর চরিত্রকে বেশি স্মরণ করেন। তাঁর বিনয়, সততা, আন্তরিকতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে সকলের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল।
শৈশব, শিক্ষা ও জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার রাউতগাঁও (লংলা) গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত পরিবারে তাঁর জন্ম । ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও অধ্যবসায়ী। শিক্ষাজীবনে তাঁর কৃতিত্ব তাঁকে বাংলাদেশের সিভিল প্রশাসনে যোগদানের সুযোগ এনে দেয়, যা অনেকের কাছে ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্যের স্বপ্ন । কিন্তু তিনি ছিলেন অন্যরকম মানুষ। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার আরও বিস্তৃত সুযোগ আইন ও জনসেবার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।
তিনি এমন একটি জীবন চেয়েছিলেন যেখানে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকা সম্ভব হবে। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি আইন পেশা এবং রাজনীতির পথ বেছে নেন। আইনে ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি প্রথমে সিলেটে এবং পরে মৌলভীবাজারে আইন পেশায় যুক্ত হন। ১৯৭৬ সালে তিনি উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যে আসেন। পরবর্তীতে তিনি নিজস্ব আইন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। বহু তরুণ আইনজীবী তাঁর কাছ থেকে দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।
রাজনীতি ও জনকল্যাণে সম্পৃক্ততা
আশফাক উদ্দিন আহমদ বিশ্বাস করতেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন । এই বিশ্বাস থেকেই তিনি ন্যাপ (ভাসানী)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং রাজা সাহেবের মতো নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীও হয়েছিলেন। তাঁর রাজনীতির উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা অর্জন নয়; বরং ন্যায়, সততা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
ঈমান ও আধ্যাত্মিকতার শক্তি
তাঁর জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিকগুলোর একটি ছিল তাঁর ঈমান ও ধর্মীয় জ্ঞান। আমি তাঁর তত্ত্বাবধানে কাজ শেখার সময় কখনও তাঁকে জামাতে নামাজ আদায়ে অবহেলা করতে দেখিনি । কর্মব্যস্ততা, ভ্রমণ কিংবা অন্য কোনো অজুহাত তাঁর নামাজের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি । নামাজের সময় হলে তিনি গাড়ি থামিয়ে হলেও নামাজ আদায় করতেন। আন্টি (তাঁর সহধর্মিণী) আমাকে একটি ঘটনা বলেছিলেন। তরুণ বয়সে একবার তিনি দীর্ঘ ভ্রমণে ছিলেন । নামাজের সময় হলে তিনি গাড়ি থামানোর অনুরোধ করেন । গাড়িতে থাকা কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ প্রথমে আগ্রহী না হলেও তাঁর দৃঢ়তা দেখে শেষ পর্যন্ত সবাই নামাজ আদায় করেন। এটি একটি ছোট ঘটনা হলেও এটি তাঁর চরিত্রের গভীরতা তুলে ধরে।
একদিন তিনি আমাকে একটি ঘটনা বলেছিলেন, যা আজও আমার হৃদয়ে গেঁথে আছে। তাঁর স্ত্রী যখন প্রথম সন্তানের গর্ভধারণ করেছিলেন, তখন তিনি মক্কা শরীফে যান। সেখানে তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন— “হে আল্লাহ, আমি আমার স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে আপনার জিম্মায় রেখে এসেছি। আপনি তাঁদের সেইভাবে হেফাজত করুন, যেভাবে আপনি হযরত ইসমাঈল (আ.) এবং তাঁর মাকে হেফাজত করেছিলেন।” একজন পিতার হৃদয়ে কতটা মমতা, ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধ থাকলে এমন দোয়া উচ্চারিত হতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
রমজান মাস ছিল তাঁর জীবনের এক বিশেষ অধ্যায় । পুরো মাস তিনি অধিকাংশ সময় মসজিদে কাটাতেন । কোনো সামাজিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতেন না। তিনি বলতেন, “আল্লাহর দাওয়াতের চেয়ে বড় দাওয়াত আর হতে পারে না।”
ফজরের নামাজের পর অফিসে যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ার পরও তিনি দীর্ঘ সময় নফল ইবাদতে কাটাতেন। সালাতুদ-দুহা ও দীর্ঘ কিরাতে নফল নামাজ আদায় করা ছিল তাঁর নিয়মিত অভ্যাস।
পবিত্র কুরআন সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি ছিল গভীর । তিনি প্রায়ই বলতেন, “কুরআনের একটি আয়াত আরেকটি আয়াতের ব্যাখ্যা করে।” এই দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে তিনি বহু প্রচলিত ভুল ধারণার সংশোধন করতেন। আন্টির কাছ থেকে শুনেছি, একবার তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে একজন মহিলাকে ইদ্দত সম্পর্কে ইসলামী বিধানের ব্যাখ্যা দিয়েিছলেন। তাঁর ব্যাখ্যায় ছিল জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সহমর্মিতার অপূর্ব সমন্বয়।
আতিথেয়তা, ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধন
তাঁদের বাড়ি শুধু একটি বাড়ি ছিল না; এটি ছিল আত্মীয়স্বজন, বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য এক উন্মুক্ত আশ্রয়স্থল। বিশেষ করে ঈদের দিনগুলোতে তাঁদের বাড়ি পরিণত হতো মিলনমেলায়।
প্রায় পঁচিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য মানুষ ঈদের দিন তাঁদের বাড়িতে যেতেন । ব্যক্তিগতভাবে বলতে গেলে, আমাদের পরিবারও মনে করত যে তাঁদের বাড়িতে না গেলে ঈদের আনন্দ যেন পূর্ণতা পায় না। তিনি ও আন্টি শুধু বড়দের প্রতিই নয়, শিশুদের প্রতিও ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল।
তাঁর জানাজার নামাজ পরিচালনাকারী ইমাম স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, ছোটবেলায় যখনই তিনি তাঁদের বাড়িতে যেতেন, মরহুম আশফাক উদ্দিন আহমদ সবসময় হাসিমুখে তাঁকে স্বাগত জানাতেন । তাঁদের বাড়ি বহু আত্মীয়-স্বজনের জন্য আশ্রয়স্থল ছিল।
শুধু নিজের পরিবারের মানুষ নয়, স্ত্রীপক্ষের আত্মীয়দের প্রতিও সমান আন্তরিক ছিলেন। অনেকেই তাঁদের বাড়িকে নিজেদের দ্বিতীয় বাড়ি বলে মনে করতেন।
মানবসেবা ও সমাজে অবদান
যুক্তরাজ্যে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি শিশুদের কুরআন শিক্ষা দিতেন, ঠিক একজন ধর্মীয় শিক্ষকের মতো। নতুন পরিবেশে বেড়ে ওঠা মুসলিম শিশুদের ঈমান ও ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত রাখার এই প্রচেষ্টা ছিল তাঁর চরিত্রের এক অনন্য দিক।
পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে একাধিক মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। তিনি নীরবে অসংখ্য দাতব্য কাজ করেছেন, যার অনেকগুলোর খবর হয়তো কখনও প্রকাশও পায়নি।
পূর্ব লন্ডনের বিখ্যাত মুলবেরি গার্লস স্কুলে হিজাব পরিধানের অধিকার প্রতিষ্ঠার পেছনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল । তাঁর দূরদর্শিতা, ধৈর্য এবং যুক্তির মাধ্যমে মুসলিম ছাত্রীরা তাদের ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছিল।
তিনি দুইটি বিদ্যালয়ের প্যারেন্ট গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও তিনি স্ট্যান্ডিং এডভাইজারি কাউন্সিল ফর রিলিজিয়াস এডুকেশন’ এর সদস্য ছিলেন। এই পরিষদের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষের ধর্মীয় শিক্ষার পাঠ্যক্রম প্রণয়নে অবদান রাখেন। ফলে বিভিন্ন ধর্মের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন
তাঁর জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন ছিল পূর্ব লন্ডনের উডফুড এলাকার মুসলিমদের জন্য একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা। আমি নিজ চোখে দেখেছি, এই স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি কত সভা-সমাবেশ করেছেন, কত পরিকল্পনা করেছেন এবং কত মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এমনকি নিজের অফিসেও বারবার বৈঠকের আয়োজন করতেন । সে সময় এলাকায় কোনো মসজিদ ছিল না বললেই চলে। তিনি চাইতেন মানুষ যেন নিজেদের এলাকায় নামাজ আদায় করতে পারে এবং একটি ইসলামী কেন্দ্র গড়ে ওঠে । আল্লাহর অশেষ রহমতে তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। আজ উডফোর্ড মুসলিম কালচারাল সেন্টার শুধু একটি মসজিদ নয়; এটি শিক্ষা, দিকনির্দেশনা এবং সামাজিক সম্প্রীতির একটি কেন্দ্র। তাঁর এই প্রচেষ্টা আমাদের শেখায় যে আন্তরিকতা, অধ্যবসায় এবং আল্লাহর ওপর ভরসা থাকলে অসম্ভব মনে হওয়া স্বপ্নও একদিন বাস্তবে পরিণত হতে পারে।
পরিবার ও উত্তরাধিকার
মরহুম আশফাক উদ্দিন আহমদের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামতগুলোর একটি তাঁর সহধর্মিণী, মিসেস হাসনা হেনা আহমদ । তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা এবং একটি সম্মানিত পরিবার থেকে আগত। তাঁর পিতা ব্রিটিশ আমলে সিভিল সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন। আজ আন্টি অত্যন্ত মর্যাদা, ধৈর্য ও শক্তির সঙ্গে পরিবারকে আগলে রেখেছেন এবং তাঁর স্বামীর উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেন।
তাঁদের সন্তানরা তাঁদের আদর্শ, শিক্ষা ও মূল্যবোধের জীবন্ত প্রতিফলন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল), অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজের মতো বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার পরও তাঁরা অত্যন্ত বিনয়ী ও মাটির মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাঁদের কন্যা ড. তাহনিয়া আহমদ তাঁর ছাত্রজীবনেই চারজন বন্ধুকে ইসলামের সঠিক পথে ফিরে আসতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।
এটি তাঁর পিতা-মাতার দেওয়া আদর্শ শিক্ষারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । তাঁদের পুত্র হাসান সামী আহমদ তাঁর পিতার অসুস্থতার সময় অসাধারণ দায়িত্বশীলতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। এমনকি নিজের বিয়ের প্রস্তুতির সময়ও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পরিবারের সব দায়িত্ব পালন করেন । অনেকের কাছেই এটি তাঁর পিতার চরিত্রের ধারাবাহিকতা বলে মনে হয়েছে।
চিরন্তন প্রেরণা
মরহুম আশফাক উদ্দিন আহমদ নীতি, ঈমান ও মানবসেবার ওপর ভিত্তি করে জীবন কাটিয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ আইনজীবী, একজন স্নেহশীল স্বামী, একজন দায়িত্বশীল পিতা, একজন সমাজসেবক এবং সর্বোপরি আল্লাহর একজন বিনয়ী বান্দা। তিনি ছিলেন নীরব কর্মী। তিনি এমন অনেক ভালো কাজ করে গেছেন, যার ফল আজও মানুষ ভোগ করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
এই লেখার অনেক তথ্য এসেছে পারিবারিক আড্ডা, স্মৃতিচারণা এবং তাঁর স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে শোনা ঘটনাগুলো থেকে । এগুলো শুধু স্মৃতি নয়; এগুলো আমাদের জন্য জীবন গঠনের শিক্ষা।
আজও যখন মানুষ তাঁদের বাড়িতে একত্রিত হয়, তখন কথার এক পর্যায়ে তাঁর প্রসঙ্গ চলে আসে । কারণ তাঁর জীবন নিজেই ছিল একটি শিক্ষা। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর আদর্শ, তাঁর কর্ম এবং তাঁর রেখে যাওয়া ভালোবাসা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
লেখক: ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সলিসিটর, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং জাস্টিস এইড সলিসিটর্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সলিসিটর।

