শামিমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার আহবান জানিয়েছে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ জানুয়ারি ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ২ জানুয়ারি ২০২৬ : সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, ইউরোপীয় বিচারকরা যখন শামিমার বৃটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছেন, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তে “দৃঢ়ভাবে অনঢ় রয়েছেন”।
ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত এ বিষয়ে একটি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে, তবে সরকারি সূত্র বলছে, শামিমার নাগরিকত্ব বালিতের সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের আদালতগুলোতে বহাল রয়েছে।
শামিমা বেগমের বয়স ছিল ১৫ বছর, যখন তিনি পূর্ব লন্ডন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিক স্টেট (আইএস) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যান, যেখানে তিনি একজন আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করেন।
বর্তমানে ২৬ বছর বয়সী শামিমাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। তবে তার আইনজীবীরা দাবি করছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাকে গ্রুমিং ও মানবপাচারের শিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে জানতে চেয়েছে—সেই সময়ের মন্ত্রীরা কি বিবেচনা করেছিলেন যে শামিমা বেগম মানবপাচারের শিকার হতে পারেন কিনা, এবং সে ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের তার প্রতি কোনো দায়িত্ব বা বাধ্যবাধকতা ছিল কি না।
তবে সরকারি এক সূত্রের ভাষ্য হচ্ছে, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শামিমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তে দৃঢ়ভাবে আটল থাকবেন, যা আমাদের অভ্যন্তরীণ আদালতগুলোতে বারবার পরীক্ষা করা হয়েছে এবং বহাল রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বদা এই দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দেবেন।”
এই মাসের শুরুতে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত প্রকাশিত এক নথিতে বলা হয়, শামিমা বেগম ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায়—যা দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ করে—তার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মামলাটি দায়ের করা হয়, যখন যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট তাকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
স্ট্রাসবুর্গের বিচারকরা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে যে চারটি প্রশ্ন তুলেছেন, তার মধ্যে একটি হলো:
“কনভেনশনের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে, নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আবেদনকারী মানবপাচারের শিকার ছিলেন কি না এবং সে কারণে তার প্রতি কোনো দায়িত্ব বা বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়েছিল কি না—তা বিবেচনা করার কোনো ইতিবাচক দায়িত্ব কি হোম সেক্রেটারির ছিল?”
শামিমা বেগম যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন, তার বাবা-মা ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত । ২০১৫ সালে তিনি পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন থেকে দুই স্কুলবন্ধুর সঙ্গে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীকে সমর্থন দিতে চলে যান।
সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তিনি একজন আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে তার তিনটি সন্তান জন্ম হয়, যাদের কেউই বেঁচে ছিল না।
পরে তাকে সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে পাওয়া যায়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি ট্রাইব্যুনাল রায় দেয় যে, তিনি “বংশগতভাবে বাংলাদেশের নাগরিক” হওয়ায় তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করলে তিনি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বেন না।
প্রতিবেদক : সুজান লি, বিবিসি নিউজ থেকে বঙ্গানুবাদ।

