প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় প্রবাসী ট্রাইবুনাল গঠনের দাবি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ আগস্ট ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ২৫ আগস্ট ২০২৬:: প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে থাকা বাড়িঘর, জমিজমা, অর্থ ও অন্যান্য সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় বিশেষায়িত ‘প্রবাসী ট্রাইবুনাল’ গঠনের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)।
গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল।
এইচআরপিবির সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদের নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরি, এ এইচ ইমরুল কাওসার, মো. মাহবুবুল ইসলাম, রিপন বাড়ৈ, মো. মজিবুর রহমান, সৈয়দা শাহিন আরা লাইলি ও নাছরিন সুলতানা।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রবাসীরা তাদের উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। কিন্তু দেশে এলে তারা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজস্ব সম্পত্তির অধিকার থেকেও বঞ্চিত হন।
এতে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী মহল প্রবাসীদের জমি, বাড়িঘর ও অন্যান্য সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রাখলেও দীর্ঘসূত্রতা ও জটিল বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে অনেক প্রবাসী কার্যকর প্রতিকার পান না। ফলে প্রবাসীদের একটি বড় অংশ দেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং অনেকে তাদের সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সময়ে প্রবাসীদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে পৃথক ‘প্রবাসী ট্রাইবুনাল’ গঠনের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে প্রস্তাবিত ট্রাইবুনালের কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কেও কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে জেলা জজ বা সমমর্যাদার বিচারককে ট্রাইবুনালের বিচারক হিসেবে নিয়োগ, দেশ-বিদেশ থেকে সরাসরি বা ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ দায়েরের সুযোগ, ৯০ দিনের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি, ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থা এবং ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিলের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়।
এছাড়া, প্রবাসীদের সম্পত্তি জবরদখলের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়, চলমান মামলা ট্রাইবুনালে স্থানান্তরের সুযোগ, বিচারিক কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত এবং প্রয়োজন হলে আবেদনকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা ট্রাইবুনালকে দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

